
#চাকুরিজীবী #সানতাড়রা #অ-#আদিবাসীদের #সাথে #বিবাহবন্ধনে #আবদ্ধ #হয়ে #নিজেদের #জীবনে #কি #সর্বনাশ #ডেকে #এনেছেন# #দেখে #নেওয়া #যাক#
যেহেতু অ-আদিবাসী মেয়ে বা ছেলেরা আদিবাসী সান্তাড় সমাজ, সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও পরিবার কে ভালোবাসে না সেইজন্য আদিবাসী সান্তাড়দের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর চাকুরিজীবী সান্তাড়দের কে তাদের পরিবার, সমাজ ও আত্মীয়স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের কে অ-আদিবাসী পরিবারেরা বাধ্য করায়। তাহলে এদের জীবনের সুখ, দুঃখ, বেদনা, ভালো- মন্দ একমাত্র অ-আদিবাসী পরিবারের হাতে। বাক স্বাধীনতা বলতে এদের কিছুই থাকবে না। এরপর অ-আদিবাসী পরিবারেরা আদিবাসী সান্তাড় দের পরিচিত বা তকমা ঘোচাতে সান্তাড় দের পদবী পরিবর্তন করে তাদের দাস, চ্যাটার্জি, ব্যানার্জি, মুখার্জি, চক্রবর্তী ইত্যাদি পদবী তে পরিবর্তন করবেন। ফলে আদিবাসী চাকুরিজীবী সান্তাড়রা অ-আদিবাসী পরিবারের কাছে চিরকালের জন্য তাদের আত্ম পরিচিতি হারিয়ে ফেলবে। তাদের আত্ম পরিচিতি হারানোর ফলে তারা নামহীন, গন্ধ হীন, গোত্র হীন ফুলের মত আজীবন বেঁচে থাকবে। এরপর আদিবাসী সান্তাড়দের প্রবহমান রক্তের স্রোত অ-আদিবাসীদের শরীরে আর প্রবাহিত হবে না। ফলে তাদের সন্তান সন্ততি রা আর আদিবাসী সান্তাড়দের রক্ত বহন করে বেঁচে থাকবে না। যে রকম "কাকের বাসায় কোকিল ডিম পাড়লে সেই বাচ্চা আর কাক হয়ে জন্মায় না, কোকিল হয়েই জন্মায়।" ফলে তাদের প্রজন্মের শরীরে আর আদিবাসী সান্তাড়দের রক্ত প্রবাহিত হবে না। তাদের প্রজন্মের গায়ে আর আদিবাসী সান্তাড়দের গন্ধ থাকবে না,তাদের প্রজন্মের গায়ে আর আদিবাসী সান্তাড়দের পরিচিত নিয়ে বেঁচে থাকবে না, তাদের প্রজন্ম রা বেঁচে থাকবে অ-আদিবাসী পরিচিত নিয়ে। অথচ আদিবাসীদের ST রিজার্ভেশন এর সমস্ত রকমের সুযোগ সুবিধা বঙশ পরম্পরায় ভোগ করবে। সুতরাং তারা অ-আদিবাসীদের বুদ্ধিদীপ্ত বহ্নি শিখার কাছে নিজেদের কে নিঃশেষ করলেন। না তাদের প্রজন্মের কাছে নিজেদের পরিচিত বেঁচে থাকল? না তাদের পরিবারের কাছে নিজেদের পরিচিত বেঁচে থাকল? না তাদের সমাজের কাছে তাদের পরিচিত বেঁচে থাকল? তাহলে অ-আদিবাসীরা চাকুরিজীবী সান্তাড়দের কে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করে নিজেরা বিত্তশালী হলো আর চাকুরিজীবী সান্তাড়রা নিজেদের জীবনকে অ-আদিবাসীদের কাছে সঁপে দিয়ে বোকা কালীদাস এর মত মহান হতে গিয়ে নিজেদের জীবনে কি সর্বনাশ ডেকে এনেছেন তা একমাত্র তারাই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।
#চাকুরিজীবী #সানতাড়রা #অ-#আদিবাসীদের #সাথে #বিবাহবন্ধনে #আবদ্ধ #হয়ে #নিজেদের #পরিবারের #প্রতি #কি #সর্বনাশ #ডেকে #এনেছেন #দেখে #নেওয়া #যাক#
চাকুরিজীবী সান্তাড়রা অ-আদিবাসীদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর থেকে নিজের পরিবারের সাথে তাদের সম্পর্ক যেন উত্তর মেরু, দক্ষিন মেরু, এই দুই বিপরীত মুখী মেরুর অবস্থানের মতো। যে গরীব বাবা মায়েরা একদা নিজেরা অভুক্ত থেকে সন্তানকে লালন পালন করে বড় করলেন। তারাও ত একদিন কুঁড়ে ঘরে থেকে স্বপ্ন দেখেছিলেন আমাদের ছেলে মেয়েরা বড় হলে তাদের স্বপ্ন সত্যি হবে। এই আশায় বুক বেঁধে বাবা মায়েরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ছেলে মেয়েদের কোলে পিঠে করে মানুষ করেছিলেন। কিন্তু বাবা মায়েদের স্বপ্ন যখন সত্যি হলো তখন তাদের পাশে আর ছেলে মেয়েরা নেই। তাদের ছেলে মেয়েরা ত নতুন বাবা মায়েদের খুঁজে পেয়েছে। নতুন বাবা মায়েদের আদর যত্নের কাছে তাদের জন্মদাতা বাবা মা কে ভুলে গেছে সবাই। তাদের বাবা মায়ের চোখের জল মোছার জন্য তাদের পাশে কেউ নেই, তাদের কে স্বান্তনা দেওয়ার মতো তাদের পাশে কেউ নেই। তবুও সব দুঃখ কে হাসি মুখে তাদের বাবা মায়েরা বরণ করে নিয়েছেন। বাবা মা হয়ে নিজেদের সন্তান কে কোন মুখে অভিশাপ দেবেন? সেইজন্য সব বাবা মায়েরাই শত দুঃখের মাঝে তাদের মুখে শোনা যায় " আমাদের সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে"। সেইজন্য তাদের বাবা মায়েরা তাদের ছেলেদের মুখ দর্শন এর জন্য অনেক বাবা মা তাদের আছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের ছেলেরা তাদের অ-আদিবাসী শশুর শাশুড়ির কাছে তাদের জন্মদাতা বাবা মা অস্বীকার করেছেন এবং তাদের অ-আদিবাসী শশুর শাশুড়ির কাছে তাদের জন্মদাতা বাবা মা কে চাকর বলে পরিচিত দিয়েছেন। এহেন পরিস্থিতিতে তাদের ছেলের শশুর শাশুড়ির বাড়ীর পর্দার আড়ালে তাদের মায়ের আপ্তবাক্য " বাবু তুই যখন
প্রথম বার আমাকে মা বলে ডেকে ছিলি তখন আমার মনেপ্রাণে কি নাই আনন্দ হয়েছিল, আজ তুই যখন আমাদের কে চাকর বলে পরিচিত দিলি আজকেও তোর মুখ থেকে এই ডাক শুনে ততটাই আমার মনেপ্রাণে আনন্দ হলো"। এইভাবে তাদের জন্মদাতা দের কাছ থেকে সবাই দূরত্ব বজায় রেখে চলেছেন।
#চাকুরিজীবী #সানতাড়রা #অ-#আদিবাসীদের #সাথে #বিবাহবন্ধনে #আবদ্ধ #হয়ে #নিজেদের #সমাজের #প্রতি #কি #সর্বনাশ #ডেকে #এনেছেন #দেখে #নেওয়া #যাক#
শিক্ষাই হল যেকোন সমাজ বা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষাই আনে চেতনা, শিক্ষাই আনে বিপ্লব। শিক্ষা ছাড়া কোন সমাজ বা জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। আজ আমাদের শিক্ষিত চাকুরিজীবী সান্তাড় রাই হলো সমাজের অগ্রগতির ধারক ও বাহক। অথচ তারাই আমাদের সমাজ থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও ভাষাকে বিশ্ব দরবারে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব যাদের কাঁধে তারাই আজ আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও ভাষাকে অবহেলা, অবমাননা করছেন। তাহলে আজ শিক্ষিত চাকুরিজীবী সান্তাড় রাই সমাজ কে পিছিয়েছেন। আজ শিক্ষিত চাকুরিজীবী সান্তাড় রাই সমাজ কে ডুবিয়েছেন। আজ শিক্ষিত চাকুরিজীবী সান্তাড় রাই সমাজ কে অবমাননা করেছেন। আজ শিক্ষিত চাকুরিজীবী সান্তাড় রাই সমাজ কে পদাঘাত করেছেন। আজ শিক্ষিত চাকুরিজীবী সান্তাড় রাই ঘরের শত্রু বিভীষণ এর অবতারে অবতীর্ণ হয়েছেন। তাই এরাই সমাজের বারোটা বাজাচ্ছেন।
তাহলে চাকুরিজীবী সান্ত্বাড় রা অ-আদিবাসীদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নিজের জীবনে সর্বনাশ ত ডেকে আনলেন তার সাথে সাথে নিজের সমাজ ও পরিবারের কেও ডুবালেন। তাই নিজের সমাজকে বাদ দিয়ে, নিজের পরিবারকে বাদ দিয়ে, নিজের আত্মীয় স্বজনদের বাদ দিয়ে আপনাদের জীবনের চলার পথ কোনদিনও সুখের হবে না। এদের কে বাদ দিয়ে যদি আপনারা সুখের স্বর্গে বিরাজ করতে চান তবে আপনার সমাজ, আপনার পরিবার, আপনাদের আত্মীয়স্বজন কোনদিনও ক্ষমা করবে না এবং অ-আদিবাসীদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করতে গিয়ে আপনাদের, সমাজের, পরিবারের কি অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন সেটা কোনদিনই আপনারা পূরণ করতে পারবেন না।]

0 comments:
Post a Comment