




জোহার শহীদ বীর রঘুনাথ সিং জোহার
জোহার চূয়াড়বিদ্রোহের মহানায়ক রঘুনাথ সিং
★শহীদ রঘুনাথ সিং এর ২২৫ তম জন্ম জয়ন্তী ★
শহীদ রঘুনাথ সিং এর পরিচয়
★ রঘুনাথ সিং পাতর (নয়ন)
★জন্ম : -- ১৭/০২/১৭৯৫
★শহীদ : -- ২৩/০৯/১৮৩৪
★বাল্য/ডাক নাম : -- নয়ন সিং
★পিতা : -- বৈদ্যনাথ সিং
★পিতামহ : -- জগন্নাথ সিং
★জন্মস্থল : -- মালীগড়,দামপাড়া,ধলভূমগড়।
★গোত্র(বংশ) : -- শাণ্ডিল্য।
★মাটি /উক শাশ্মণ/হাড়শালী : -- বেলাবড়মা।
ইতিহাস কথা : ---------
তিন পুরুষ ধরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই চালান - জগন্নাথ সিং,বৈদ্যনাথ সিং,রঘুনাথ সিং।
১৮০৫ সালের আইন অনুযায়ী "ধলভূম " ইস্টেটকে যদিও জঙ্গলমহল জেলার মধ্যে আনা হয় নি তথাপি ঐ বৎসরেই Regulation XVIII অনুযায়ী ধলভূমের উপর ব্রিটিশদের জমিদারী পুলিশ প্রথা একই ভাবে আরোপিত হয়।
নিজ জমিদারী ফিরে পাওয়ার জন্য ব্রিটিশ বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন বৈদ্যনাথ সিং। ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের নির্ভীক নেতা বৈদ্যনাথ সিং এর উত্তরসুরী ছিলেন রঘুনাথ সিং(নয়ন সিং)।
ছোটোবেলা থেকেই রঘুনাথ সিং ছিলেন যেমন শান্ত ও নম্র তেমনি ছিলেন সাহসী ও বিচক্ষণ। পরম ধর্মপরায়ন মাতার কাছে ধর্মের কথা শুনে এবং পিতার কাছে তীর ও তলোয়ার চালানো শিখতে শিখতে তাঁর মনে স্বদেশ প্রেমের জন্ম নেয়।
দামপাড়ার ৬০ টি মৌজার জমিদারী। জামবাদ থেকে শুরু করে ঢাকপাথর,ডাঙ্গাকমল,মুড়াকাটি,চাখদা,চাপড়ি,দীঘা, ঝাঁটিঝরনা ইত্যাদি মৌজা।মাত্র দশ বছর বয়সেই অস্ত্র বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠেন।
ধলভূম,মানভূম,সিংভূম,বরাভূম, বীরভূম, তুঁঙ্গভূম এবং শিখরভূম এই সাতভূমে ভূমিজ শাসকের রাজত্বকাল ছিল।
বালক নয়ন সিং একদিন একা বনে ঘুরতে ঘুরতে আচমকা প্রবল ঝড়ের মুখে পড়লেন আত্মরক্ষার জন্য একটা বটগাছের নীচে দাঁড়ালেন। এই সময় তিনি দেখলেন এক অপূর্ব দৃশ্য। ঝড় তুফানের হাত থেকে বাঁঁচবার জন্য ছোটো একটা বটগাছের নীচটাতে এসে মাটির উপর শুয়ে বিরাট পাথর তুলে নিয়ে একটি গুহার মধ্যে প্রবেশ করল। চারিদিকে তখন বজ্রের মতো মেঘ গর্জন, সাথে বিদ্যুতের ঝলক। প্রবল বর্ষন এবং মেঘগর্জন থেমে গেল শান্ত ও সাহসী বালক রঘুনাথ সিং ঐ জায়গাটিতে গিয়ে ঐ পাথরটিকে তুললেন তার শরীর কেঁপে উঠল। শরীরে এক নতুন শক্তি পেলেন। বটগাছের নীচে বনের দেবতা ভৈরব - ভৈরবী বাস করেন। ঐ রাতেই রঘুনাথ সিং স্বপ্নে দেবদেরীর সাক্ষাৎ পান। পরদিন দেবস্থলে পূজা দিলেন। দামপাড়ার ৬০ মৌজার গ্রামবাসীগণও ভৈরব মন্দিরে পূজা দেন। লাল সিং এর সাহায্যে জামবাদ,বুধরায়,সাই,কানিমহলি,ঘন্টিডুবা, যুগতিডি প্রভৃতি জায়গায় গ্রাম আখড়া খুলে যুবকদের তীর ও তলোয়ার চালানো,লাঠিখেলা এবং কুস্তী লড়বার শিক্ষা দিতে লাগলেন। তখনকার দিনে প্রচলিত এই সবকথা দামপাড়া এলাকাজুড়ে এখনো সবার মুখে মুখে ঘোরে। দামপাড়ার "যুবশক্তির জনক" বলা হত রঘুনাথ সিংকে। মায়ের কথা মত কুইলাপালের জমিদার কন্যাকে তিনি বিবাহ করেন।
ইতিমধ্যে ফিরিঙ্গী সরকার ছোটনাগপুরের জমিদারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ঘটশিলায় পৌছে যান ঘাটশিলার জমিদার জগন্নাথ সিং এর সাথেও ব্রিটিশদের চুক্তি হয়। ঘাটশিলার শিবিরে রঘুনাথ সিংকেও ডাকা হয়। চোটনাগপুরের তৎকালীন ইংরেজ শাসক ফার্গুসন ছোটনাগপুর এবং ঘাটশিলার জমিদারদের মতো রঘুনাথ সিংকেও চুক্তিপত্রে সই করতে বললেন। রঘুনাথ সিং ঘৃনাভরে তা প্রত্যাখ্যান করলেন। ফার্গুসনের মুখের উপর তিনি পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দিলেন - " দামপাড়া আমার একার নয় ;দামপাড়া সমস্ত দামপাড়াবাসীর এলাকা। এই জন্য আমি একা হস্তাক্ষর করে আপনার দাসত্ব স্বীকার করতে পারি না। তাছাড়া ফিরিঙ্গী সরকারের দাসত্ব আমার পছন্দ নয়।
ফার্গুসন রঘুনাথ সিংকে নানা প্রলোভন দিলেন। তাতেও কাজ না হলে তাঁকে ধমক দেন। অকূতোভয় রঘুনাথ সিং ফার্গুসনের ধমকানিকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় না দিয়ে তিনি বলেন 'যদি আমি ফিরে আসি তবে চুক্তি পত্রে হস্তাক্ষর হবে; আর যদি না আসি তবে সিংহের গুহা থেকে ঘুরে আসবেন'। ঘাটশিলার এই ঘটনা পিতৃ বন্ধু লাল সিং কে বলেন রঘুনাথ সিং,শুনে লালসিং এর গর্বে বুক ভরে উঠে এবং আবেগময় কণ্ঠে তিনি বলেন " বেটা তুই দামপাড়ার গৌরব।আমার এটাই তোর উপর গর্ব; তুই যা করেছিস তা ঠিক।আমরা কখনই ফিরিঙ্গী সরকারের আধীনে থাকতে পারিনা ; কোনোমতেই সন্ধি করা যাবে না।যুদ্ধ অনিবার্য, আমাদের তৈরী থাকতে হবে"।রঘুনাথ সিংও সদর্পে বললেন 'জমির কর আমি দেব না ; আর ফর্সা লোকের দাস্ত্বও আমি করব না।যুদ্ধে জিৎ আমাদের হবেই '।
ঘাটশিলায় ইংরেজদের সাথে চুক্তিবদ্ধ না হওয়ার মূহূর্তেই রঘুনাথ সিং উপলদ্ধি করেছিলেন যে যুদ্ধ অনিবার্য। তিনি তাঁর গর্ভবতী পত্নীকে বাবার বাড়ী পাঠিয়ে দিলেন। সমস্ত গ্রামবাসীকে যুগতিডি আখড়াতে ডেকে সভা করলেন। ঘাটশিলায় যা ঘটেছে সভায় সব খুলে বললেন। সভায় তিনি বললেন - 'দামপাড়া আমার জন্মভূমি।জন্মভূমি আমাদের মা'।তাই জন্মভূমিকে বাঁচানো মানে মা- কে বাঁচানো।মা কে বিক্রি করে কেউ কোন দিন সুখী হতে পারে না। মাকে রক্ষা করার জন্য তৈরী থাকতে হবে। বিদেশীদের কর আমরা দেব না আর তাদের দাসত্বও স্বীকার করব না। যুগতিডি সভায় পাঁচটি আখড়ার সমবেত সমস্ত শিক্ষার্থী এবং উপস্থিত গ্রামবাসীগণ রঘুনাথ সিং এর কথা শোনার পর ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একসাথে গর্জে উঠে শপথ নিলেন মাতৃভূমি দামপাড়া কে রক্ষা করার জন্য শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে তাঁরা লড়বেন। তাঁদের নেতা রঘুনাথ সিং কে বিদেশীরা যাতে আক্রমণ করতে না পারে তার জন্য রঘুনাথ সিং এর বাড়ি আসার রাস্তায় বড় বড় কাঠ পুঁতে দেওয়া হল। দু মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও রঘুনাথ সিং যখন ঘাটশিলায় ইংরেজ শিবিরে গেলেন না তখন ফার্গুসন রঘুনাথ সিং কে বন্দী করার জন্য এক গাড়ি ফৌজ পাঠালেন। বিদেশী ফৌজ ঘাঁটিডুবার বুড়ি বাঁধের ধারে তাদের শিবির স্থাপন করে। শত্রুপক্ষের আগমনের সংবাদ পেয়ে রঘুনাথ সিং তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গীদের সাথে জঙ্গলে আস্তানা বেঁধে শত্রুদের হত্যা করার জন্য ওৎ পেতে থাকলেন। ব্রিটিশ ফৌজ রঘুনাথ সিং এর বাড়ী আক্রমণ করতে এগিয়ে এলে তিনি যোগ্য জবাব দেন ব্রিটিশরা যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে ঘাঁটিডুবার শিবিরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।নিজেদের শিবির রক্ষা করাই ব্রিটিশদের দায় হয়ে দাঁড়াল। কিছু বন্দুকধারী ফৌজকে বুড়ীবাঁধের পাড়ে টহল দিতে বলা হয়। এদিকে রঘুনাথ সিং পাশের একটি বটগাছে লুকিয়ে থেকে বুড়ীবাঁধের পাড়ে টহলরত বন্দুকধারী ফৌজকে এক এক তীরে ধরাশায়ী করতে লাগলেন, কিছু বোঝার আগেই শন্ শন্ ক রে তীর এসে বুকে বিদ্ধ হয়ে যাচ্ছিল। বুড়ীবাঁধের পাড় থেকে সাদা চামড়ার সাহেবদের লাল রক্ত গড়িয়ে নেমে পুকুরের জলকে রক্ত বর্ণ করে দিল। ব্রিটিশ ফৌজের দেশী লাঠিয়ালরা সবকিছু বুঝতে পেরে পালাতে শুরু করল। শিবির থেকে সমস্ত ফৌজ পুকুর পাড়ে বেরিয়ে পড়ল এবং একে অপরকে জিঞ্জাসা করতে লাগল - এসব কে করছে ? রঘুনাথ সিং এর অব্যর্থ তীর তখনো সমানভাবে ছুটে আসছে এবং এক এক ফিরিঙ্গী "হায় গড" বলতে বলতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে রঘুনাথ সিং এর বাহিনীর লোকেরাও কাছে এসে চারদিক থেকে ব্রিটিশ ফৌজকে ঘিরে ফেলে। এই লড়াইয়ে রঘুনাথ সিং এর একজন বল্লমধারী মারা যান। ফার্গুসনের ভাগ্নে বিদ্রোহীদের বর্শার আঘাতে প্রাণ দিলেন। ইতিমধ্যে বিদিশী ফৌজদের নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে যায় এবং তারা শিবির ছেড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করে। রঘুনাথ সিং তাঁর সঙ্গী সাথীদের সাথে এসে "পড়ে ডেরা "নামক জায়গায় ব্রিটিশ ফৌজকে পুনরায় ঘিরে ফেলেন এবং ধরে ধরে তাদের কেটে কেটে নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়ে থাকেন। ফর্সা লোকেদের মানভুঞা ভাষায় বলা হয় "পেঁড়কা"। এই কারনে ফর্সা লোকেদের কাটা হয়েছিল বলে ঐ এলাকার নাম হয় - "পেঁড়েডেরা"। আর ব্রিটিশদের মুণ্ডুকাটা জায়গাটির নাম হয় - "মুড়াকাটা"। এই যুদ্ধে ফার্গুসনের বাহিনী সম্পূর্নভাবে রঘুনাথ সিং এর কাছে পরাজিত হয়ে যায়। প্রতিশোধ নেবার জন্য ফার্গুসন বার বার অভিযান পাঠিয়েও রঘুনাথ সিংকে কাবু করতে পারে নি। অথচ সারা সিংভূম এবং ধলভূমে ব্রিটিশপ্রভাবকে অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে রঘুনাথ সিংকে পরাজিত করে বন্দী করাটা ছিল অত্যন্ত জ রুরী। ফার্গুসন এবার নুতন ফন্দি আঁটলেন। যুদ্ধের পথ ছেড়ে দিয়ে দেশী ফৌজদের সাহায্য নিয়ে রঘুনাথ সিং এর কুটুম্ব-বন্ধু এবং তাঁর শত্রুদের বেড়াদার শিবিরে আনলেন। গোবরঘুটির তৎকালীন জমিদার তরণী সিং ছিলেন রঘুনাথ সিং এর মামা। ফার্গুসন গোবরঘুটি থেকে তাঁকেও বেড়াদাতে আনিয়ে তাঁর সাথে বন্ধুত্ব করলেন। তরণী সিং যদি তাঁর ভাগ্নে রঘুনাথ সিং এর গোপন ডেরার সন্ধান দেন এবং রঘুনাথ সিংকে ফার্গুসনের কাছে কৌশলে হাজির করেন তা হলে তরণী সিংকে আর কোনদিন কীন খাজনা দিতে হবে না, আর তা না করলে তার জমিদারী বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হবে। তরণী সিং ফার্গুসনের প্রস্তাবে রাজী হ য়ে যান। বিশ্বাসঘাতক তরণী সিং দামপাড়া গিয়ে জমিদার রঘুনাথ সিং এর বাড়ী গিয়ে তার দিদি এবং ভাগ্নে রঘুনাথ সিংকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে গোবরঘুটি নিয়ে যান। ফার্গুসন খবর পাওয়া মাত্র সেই রাতেই গোবরঘুটির জমিদার বাড়ী ঘেরাও করে রঘুনাথ সিংকে বন্দী করেন।অনেকের মতে রঘুনাথ সিং তখন ঘুমাচ্ছিলেন। তাঁর বুকের উপর টাড়া দিয়ে তাঁকে ধরা হয়। তাঁর গ্রেপ্তারের করুন কাহিনী গানের আকারে এখনো গোবরঘুটি এবং দামপাড়ার মানুষের মুখে মুখে ঘোরে।
"বড় ভেদে গো/নয়ন সিং এর বুকে দিল টাড়া।
দু - নয়নে বহে ধারা"।
যাইহোক রঘুনাথ সিং এবং তার মাকে বন্দী করে নিয়ে আসা হল ব্রিটিশ ঘাঁটি বেড়াদায়। ঘরের মধ্যে সাতদিন বন্ধ করে রঘুনাথ সিংকে প্রচণ্ড মার দেওয়া হল। তথাপি তিনি দাসত্ব স্বীকার করলেন না। অবশেষে তাঁকে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে জিঙ্গাসা করা হল - "নয়ন সিং তোমার এখন কেমন লাগছে"।রঘুনাথ সিং সদর্পে উত্তর দিয়েছিলেন - " এটা আমার রোজকার কুস্তির মতন ফার্গুসন,এতে আমার কিছু হবার নয় "। এরপর রঘুনাথ সিংকে খাবার এবং জল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হল এবং চারটি মহিষের দ্বারা তাঁকে টানানো হল। নয়ন সিং প্রাণ ত্যাগ করলেন তবুও বিদেশী গোলামী স্বীকার করলেন না। নয়ন সিং এর মাকে ছেড়ে দেওয়া হল। বিদেশী ফৌজের দল ততদিনে নয়ন সিং এর বাড়ি এবং শিবমন্দিরে আগুন লাগিয়ে দিয়ে সবকিছুকে অপবিত্র করে দিয়েছে। বুড়িমা ফিরে এসে আর ঘর দেখতে পেলেন না। রঘুনাথ সিনফ একদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন -" জন্মভূমিকে বাঁচানো মানে মাকে বাঁচানো -- মাকে বিক্রী করে কেউ সুখী হতে পারে না "--- নিজের জীবন দিয়ে তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞা পূরণ করে গেলেন।
শহীদ দুর্জন সিং অল অনল আখড়া,ঘড়াপুতা,রাইপুর,বাঁকুড়া থেকে তাঁর পূণ্য জন্ম তিথিতে শতকোটি প্রণাম জানাই। বীর শহীদ রঘুনাথ সিং অমর রহে।।চূয়াড় বিদ্রীহের মহানায়ক শহীদ বীর রঘুনাথ সিং অমর রহে।।রঘুনাথ সিং জিয়াদগে,জিয়াদগে।।অতে হাসা আবুআ,আবুআ।। বুরু বিনিন আবুআ,আবুআ।। বিদ দিরি জিয়াদগে,জিয়াদগে।।

0 comments:
Post a Comment